মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বক্তৃতায় ঋদেনদিক মিত্রোর ভয়ংকর কবিতা

Please share this post

মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বক্তৃতায় ঋদেনদিক মিত্রোর ভয়ংকর কবিতা

২৮ নভেম্বর ২০২২, কলকাতা
নিজস্ব প্রতিনিধি : globalnewz.online :-

এই মর্মস্পর্শি  কবিতাটি পড়ার আগে এই কবিতা লেখার পেছনের কাহিনি জেনে নিন। মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বক্তৃতা থেকে জন্মানো ঋদেনদিক মিত্রোর ভয়ংকর কবিতা ” তোমরা কারা “। এই অনুুুষ্টহানেষ

অনুষ্ঠানে ঋদেনদিককে  প্রথম আমন্ত্রন পত্র দেন সাংবাদিক – কলামিষ্ট বটুকৃষ্ণ হালদার। 
কলকাতা কেওড়াতলা মহাশ্মশানের পাশে দেশবন্ধু পার্কে  দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল এর ৮৮ তম মৃত্যু দিবসে প্রথম আমন্ত্রিত হয়ে পেশায় ইংরেজী ও বাংলাভাষায় কবি-উপন্যাসিক-গীতিকার-কলামিষ্ট ঋদেনদিক মিত্রো kabyapot.com পত্রিকায় প্রকাশিত একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি সনেট পাঠ করে আপ্লুত করেন। এখানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় সকলেই গবেষক, শিক্ষক, সাহিত্যিক, বিচারপতি, ও ছাত্রছাত্রী। তাঁদের নিয়ে আমরা অন্য সংবাদ করেছি।
কিন্তু বিষয়টি এখানে একটু আলাদা। মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, ” আমি মেয়র হতে পারি, কিন্তু এইসব বিপ্লবিদের নখের যোগ্য নই। সেটা হবার চেষ্টা করি আমরা। প্রতি শাশক দল এসে তাঁদের মত ইতিহাস রচনা করেন। কিন্তু হে ছাত্রছাত্রীরা, তোমরা এইসব ইতিহাসে বিশ্বাস করবে না, পড়বে না। তোমরা পড়বে ও বিশ্বাস করবে এই যে বীরেন্দ্রনাথ শাসমলের ইতিহাস, এইসব মানুষদের  ইতিহাস। এঁদের মতই হয়ে ওঠো। “
[ বুকে ব্যাচ সাংবাদিক বটুকৃষ্ণ হালদার ]
এই বক্তৃতার কবি ঋদেনদিক যেন শুনতে পান বর্তমান রাজনৈতিক নেতাদের অন্তরের হাহাকার। মেয়র ফিরহাদ হাকিমের এই মুহুর্তটুকু নিরপেক্ষ হয়ে কথা বলা তাঁকে মুগ্ধ করে। ২৪ নভেম্বর ২০২২-এ অনুষ্ঠান করে এসে একদিন পরে এটাই চিন্তা করতে-করতে ২৬ শে নভেম্বর বিছানায় শুয়ে কম্বলের ভিতর ভোররাতে লিখে ফেলেন এই কবিতা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট কবি-সাংবাদিক বরুন চক্রবর্তী।
তোমরা কারা
 —————————–
  ঋদেনদিক মিত্রো
তোমরা কারা, ত্যাগ করেছ সব,
তোমরা হলে দেশেরই গৌরব,
ত্যাগ করেছ ধন, সম্পদ সবই,
 তোমরা বিপ্লবি,
বই-তে পড়ে তোমাদেরই কথা —
কল্পনাতে সূর্য আলোর চ্ছটা —
ছড়িয়ে যেত মনের ভিতরটাতে,
 তোমাদেরই মতন হবো —
  এমন স্বপ্ন ছিলো কল্পনাতে,
গুরুজন সব হেঁকে বলতেন —
 এমন কিছু হবি,
 জ্ঞানের সাথে সাহসী বিপ্লবি।
মহাপুরুষ ও বিদুষীদের
 আদর্শকে ধর্,
 তাঁঁদের মত জীবনটাকে গড়্।
এই বিটকেল জীবনটাতে —
 মাঝে-মাঝে তোমাদেরকে ভাবি,
 চুপিচুপি কাঁদি,
আমরা বিটকেল, তোমরা বিপ্লবি,
পথে ঘাটে পার্কে মাঠে —
তোমাদেরই মূর্তি এবং ছবি,
কেউ সয়েছ কারায় অত্যাচার,
দেওয়াল ভেদে সেই চিৎকার —
 হাওয়ায় তুলে ঝড়,
জাগিয়ে ছিল দেশবাসীকে —
 আমাদেরই এই মাটিতে,
 সে এক মুগ্ধ ঘোর,
 হাওয়ায় ছিলো ঝড়,
আমরা যারা দেশকে করি শাশন,
দিচ্ছি কত প্রতিশ্রুতির ভাষন,
 জনগণকে বানিয়ে লোভী,
 করে চলি উলটোপালটা সবই,
আমরা কেন পারিনা হতে আজ
 তেমনি সৎ,  সাহসী শিরদাঁড়া,
 বলো, তোমরা কারা?
তোমরা বা কেউ দিয়েছিলে প্রাণ,
 হাসতে-হাসতে জীবন বলিদান,
 আমরা কেন এমন করে —
  পারি না যে তাই,
 আমরা কেউ অন্যায়কে রুখতে গিয়ে
  কেনো কোনো দিশা না পাই,
 বুকের ভিতর জ্বলতে থাকে —
  সৎ সাহসের উদ্দামতার সাড়া,
 তোমাদেরই মতন পারিনা তো,
 বলো, তোমরা কারা!
এমনি করে জীবন কাটে —
 সভায়-সভায় লাখ-লাখ হাততালি,
মনে-মনে সকলে দেয়
 কলংক আর গালি,
জ্বলতে থাকি চুপিচুপি,
 অন্তরে তো হই না সুখি,
 খুব মনে হয়, তোমাদেরই মতন যদি —
 জীবনটাকে জ্বালি,
 জনগনকে বোকা বানিয়ে —
  ভয় দেখিয়ে —
  ওদের বুকের ভাষা থামিয়ে
   চাই না তো হাততালি,
খুব মনে হয়, তোমাদেরই মতন যদি —
 জীবনটাকে জ্বালি।
তেমন করে পেরে ওঠা —
 দামাল হয়ে —
  এদিক ওদিক দৌড়ে ছোটা —
  রাজনীতি নয়, বিবেক দিয়ে
 দেশকে ভালোবাসা,
আমাদেরই ভিতর আছে
   ঘুমিয়ে তেমন আশা,
   আমাদেরই ভিতর আছে –
 তোমাদেরই সততা ও দুঃসাহসের
         তীব্র রক্তধারা,
তবু,  তোমরা যেমন পেরেছিলে —
 আমরা তেমন পারিনা তো,
 বলো, তোমরা কারা?
আমাদেরকে দাও গো সাহস,
   দাও গো সততা,
তোমাদেরই মতন যেন বলতে পারি
   সাহস করে কথা,
 দেশ বিশ্বের প্রাণ, প্রকৃতি,
 এদের দেবো সুস্থ গতি,
 মুক্ত মনের মানুষ হয়ে —
 প্রানের আলো গর্বে বয়ে —
 দেশ জাতিকে বলবো হেঁকে —
 চোখে মুখে অশ্রু ঢেকে —
 আনরা মানুষ হলাম,
 যারা ছিলাম মিথ্যেবাদী,
   আতংকবাজ আর
   অন্যায়েরই গোলাম।
তেমন দিনটা আসবে কবে —
 বলো তোমরা বিপ্লবিদের দল,
 তোমোরা কি থাকবে শুধু —
 ওই মর্মর মূর্তি হয়ে —
 তোমাদেরকে দেখে-দেখে
  ফেলবো চোখের জল?
তোমরা যেমন পেরেছিলে —
 আমরা সেটা পারতে গিয়ে —
 কেনো হচ্ছি দিশেহারা,
 বলো, তোমরা কারা?
বিপ্লবিগন,
তোমরা তো আর থাকবে না তো —
পার্কে, পথে, মূর্তি হয়ে,
 বইয়ের পাতায় ছবি, গল্পে সত্যি হয়ে,
 তোমরা এবার উঠবে বেঁচে,
 সজীব মাংশ, রক্ত, চামড়া,
এই তো দেখো উঠবো জেগে,
 উঠছি জেগে,
 তোমরা মানে,  হাজার-হাজার  আমরা।
—————————————
এই কবিতা লেখার পিছনে আর একটি ঘটনা আছে। সাংবাদিক বটু কৃষ্ণ হালদারের লেখা দেশপ্রাণের উপর দুটি দুরকমের দীর্ঘ নিবন্ধ ঋদেনদিক পড়েন ঝাড়খন্ড থেকে প্রকাশিত ” সকাল-সকাল” সংবাদ পত্রে ও কলকাতা সহ কয়েক জায়গা থেকে প্রকাশিত  দৈনিক যুগসংখ সংবাদপত্রে। তারপর সেই নিবন্ধে আপ্লুত হয়ে  দেশপ্রাণের উপর ৫ টি লেখা লেখেন কয়েকদিন সময় নিয়ে। তারমধ্যে একটি বাংলা সনেট ও একটি ইংরেজি সনেট ও একটি ইংরেজী কবিতা  kabyapot.com-এ বেয়োয়, অন্য বাংলা কবিতাটি একটি বিখ্যাত পত্রিকায় দেওয়া ছিল, বেরোবে, আর দেশপ্রাণের উপর লেখা সংগীতটি তখন কোথাও দেওয়া হয়নি। যাইহোক, এরপর  সাংবাদিক বটু কৃষ্ণ হালদার কবিকে আমন্ত্রিত করেন দেশবন্ধুর ৮৮ তম মৃত্যু বার্ষিকিতে। সেখানেই  মেয়র ফিরহাদ হাকিমের এই বক্তৃতা শুনে মনের ভিতর পরপর আলোড়ন তৈরি করে — ” সব শাশনব্যাবস্থায় শাশকেরা তাদের নিজেদের মত ইতিহাস তৈরি করে, সেই ইতিহাস কেউ পড়বে না। বিশ্বাস  করবে না। আসল ইতিহাস পড়বে এই মহানদের ইতিহাস। ” — এইরকম ভাষার বক্তৃতায়। যদিও মেয়র সাহেব অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেই চলে আসেন। কবি অন্যান্য কবিদের সাথে  কবিতা পাঠ করেন। পাঠ করেন দেশপ্রাণের উপর একটি বাংলা ও ইংরেজি সনেট। মঞ্চে বেশি সময়  নেওয়া নির্লজ্জতা বলেই অন্য বাকি কোনো কবিতা পাঠ করেননি।
                                          —————————————

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *